হিজরী মাসসমূহের শেষ মাস হল জিলহজ । এ মাসের প্রথম দশ দিন হল বছরের শ্রেষ্ঠ সময় । আমালে সালেহার সর্বোত্তম মওসুম । রাসূলুল্লাহ সা. এ দশ দিনের ফজিলত বর্ণনা করার সাথে সাথে মুসলমানদের বেশী করে নেক আমল করতে উদ্ভুদ্ধ করেছেন । কি কি আমল বেশী করে করতে হবে সে সম্পর্কে দিয়েছেন সম্পষ্ট নির্দেশনা । এ বিষয়গুলো নিয়েই প্রবন্ধটির অবতারনা ।
যিলহজ মাসের প্রথম দশক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ দশকে এবাদত-বন্দেগির তুলনায় আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় অন্য কোনো কাল ও সময় নেই মর্মে হাদিসে এসেছে।
আরাফা দিবস মাগফেরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তিলাভের শ্রেষ্ঠ দিবস, যে দিবসের রোজা বিগত ও আগত এক বছরের পাপের কাফফারা। এ দিবসটিও যিলহজ মাসের প্রথম দশকেই অবস্থিত। ইয়াউমুন নাহর, যা হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী সমধিক মহিমান্বিত দিবস, যিলহজের প্রথম দশকেই অবস্থিত।
বড় ঈদ ও কোরবানি এ দশকেই স্থান পেয়েছে, এবং উভয়টারই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আহকাম। আমাদের বর্তমান রচনাটি উল্লিখিত সবকটি বিষয়কেই আলোচনায় এনেছে যথার্থভাবে। রচনাটি পাঠকবৃন্দের উপকারে আসবে বলে আমাদের আশা।
বান্দার উপর আল্লাহর অনুগ্রহের একটি হল, তিনি তার বান্দাদের জন্য ইবাদত-বন্দেগীর কিছু মৌসুম রেখেছেন, যেখানে তারা সৎ কাজ অধিকমাত্রায় পালন করবে, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়ক কর্মসমূহ সম্পাদনে তারা প্রতিযোগিতায় নামবে। অতঃপর সে ব্যক্তি সৌভাগ্যবান যে এ মৌসুমগুলো যথার্থরূপে কাজে লাগাবে, অবহেলায়, গুরুত্বরহিত হয়ে তা অতিক্রান্ত হতে দেবে না। এ অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত মৌসুমগুলোর একটি হল যিলহজের প্রথম দশক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজের এ দিনগুলোকে পৃথিবীর সর্বোত্তম দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং এ সময়ে সৎ কাজ করার প্রতি তিনি উৎসাহ দিয়েছেন। শুধু তাই নয় বরং স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এ দিবসগুলো নিয়ে শপথ করেছেন। ফজিলত ও মর্যাদায় অনন্য হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট; কেননা যিনি মহান তিনি মহিমান্বিত বিষয় ছাড়া শপথ করেন না। অতএব বান্দার উচিত এ দিনগুলোয় সৎ কর্ম বাড়িয়ে দেয়া, এ ক্ষেত্রে অধিকমাত্রায় শ্রম দেয়া, উত্তমভাবে এ দিনগুলোকে স্বাগত জানানো। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে যিলহজের প্রথম দশক সংক্রান্ত কিছু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, সাথে রয়েছে ঈদুল আযহা ও কুরবানীর কিছু আহকাম।
ঈদ মুসলমানদের আত্মার পরিশুদ্ধি, মুসলিম সমাজের ঐক্য ও সংহতি, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি মার্জিত উৎসব। তবে দুঃখের ব্যাপার হল আমরা অনেকেই এ দিনটিকে যথার্থভাবে পালন করতে ব্যর্থ হই। নানাবিধ ইসলাম বহির্ভূত কাজে লিপ্ত হয়ে হারিয়ে ফেলি ঈদের মাহাত্ম্য, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসাতে আনন্দ অনুভব করি। ঈদের মূল ভাব ও দর্শন থেকে আমরা চলে যাই দূরে। এ ধরনের আচরণ থেকে বেঁচে থাকা প্রতিটি মুসলমানেরই জরুরি। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে ঈদে অবশ্য বর্জনীয় কয়েকটি আচরণ তুলে ধরা হল।
বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে নিন্মবর্ণিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে
(১) ইসলামে ঈদের প্রচলন, (২) ঈদের তাৎপর্য (৩) ঈদের দিনে পরিষ্কা পরিচ্ছন্নতা অর্জন(৪)ঈদের দিনে খাবার গ্রহণ (৫) পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া (৬) ঈদের তাকবীর (৭)ঈদের সালাত (৮) ঈদে শুভেচ্ছা বিনিময়
আমাদের বর্তমান প্রকাশনাটি নারীর হজ ও উমরা বিষয়ে একটি মৌলিক গ্রন্থ। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য বিধানাবলি বিশদভাবে বর্ণনার পাশাপাশি নারীর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য কিছু বিধানের অনুপুঙ্খ বর্ণনা স্থান পেয়েছে গ্রন্থটিতে। হজ পালনের পূর্বে এ গ্রন্থটির অধ্যয়ন বাংলা ভাষাভাষী নারী হজ পালনকারীদের ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যক বলে মনে করি।
-বেশ কয়জন বিজ্ঞ আলেমে দ্বীন ও শরীয়তবিদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফসল এই পুস্তক। পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা-টিপ্পনি সরবরাহ করে বইটিকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিটি হজকর্মের পেছনে রাসূলুল্লাহ সা. ও সাহাবাদের (রা) আদর্শ কী, তা অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে যথেষ্ট শ্রম দিয়ে। আমাদের দেশে হজ বিষয়ক প্রকাশনা অঢেল। তবে এর অধিকাংশই রেফারেন্সবিহীন। আবার কিছু কিছু এমনও রয়েছে যেগুলোয় মারাত্মক ধরনের ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। হাদিস-কুরআনের অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে লিখিত পুস্তক খুব কমই নজরে পড়ে। সে দৃষ্টিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা পাঠকের সমাদর পাবে বলে বিশ্বাস।
হজ পালন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নান্দনিক আচরণ : হজ বিষয়ে একটি অসাধারণ গ্রন্থ। হজের গতানুগতিক বর্ণনা নয় বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নান্দনিক আচরণের বহু অজানা দিক দৃষ্টির আওতায় এসেছে প্রখ্যাত লেখক ফায়সাল আল বাদানীর এই অনবদ্য রচনার মাধ্যমে। বাংলা ভাষায় রচনাটি ভাষান্তরিত করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত।
হজ ও উমরা পালনকারীর উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা : ড. ইয়াহইয়া ইবনে ইব্রাহীম আল-ইয়াহইয়া হজ ও উমরা পালনকারীর উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য উপস্থাপন করেছেন সুখপাঠ্য এই গ্রন্থে। দশটি প্রবন্ধের সমন্বয়ে রচিত এই গ্রন্থে কেবল হজ ও উমরা নয়, বরং প্রাত্যহিক জীবন সম্পর্কে বহু মূল্যবান কিছু উপদেশ স্থান পেয়েছে বইটির বিভিন্ন অধ্যায়ে। আশা করি পাঠক মাত্রই বইটি পড়ে উপকৃত হবেন।
হজ ইসলামের পঞ্জস্তম্ভের অন্যতম একটি। আর তা কবূল হওয়ার জন্য প্রয়োজন ইখলাস ও রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ মোতাবেক তা পালন করা। শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-উছাইমীন প্রণীত এ পুস্তিকায় সংক্ষেপে উমরা পলনের নিয়মাবলি, হজের প্রকারভেদ, গুরুত্ব ও নিয়মাবলি এবং মসজিদুন-নববী যিয়ারতের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা রয়েছে । এছাড়াও রয়েছে হজের সাথে সম্পৃক্ত স্থানসমূহে পঠিতব্য দোআ।