শ্রম ইতিহাসে ইসলামই প্রথম শ্রমিকের প্রতি যথার্থ দৃষ্টি দিয়েছে। তাকে দিয়েছে সম্মান ও মর্যাদা আর শ্রমের স্বীকৃতি। পক্ষান্তরে কোনো কোনো সনাতন ধর্মে শ্রমের অর্থ ছিল দাসত্ব ও বশ্যতা। আবার কোনো ধর্মে এর অর্থ ছিল লাঞ্ছনা ও অবমাননা। এ প্রবন্ধে লেখক ইসলাম শ্রমিককে যে সকল অধিকার দিয়েছে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তা তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন।
ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার যথার্থরূপে বিধিবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর শ্রমের মর্যাদাদানে ইসলামের ভূমিকা তো অনন্য। শ্রম ও শ্রমিককে সামনে রেখেই সাজান হয়েছে বক্ষ্যমাণ অডিওটি। আশা করি সবাই উপকৃত হবেন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যাতে শ্রমিক সংক্রান্ত আচরণবিধি, শ্রমিকের অধিকার, মালিকপক্ষ কর্তৃক শ্রমিকদের প্রতি সদাচার ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
আল্লাহ্ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শুধু এবং শুধুমাত্র তাঁর ইবাদাতের জন্য। এজন্যই ইসলামের মূলভিত্তি হলো তাওহীদ। এই তাওহীদ প্রতিষ্ঠার জন্যই যুগে যুগে আগমন করেছিলেন নবী-রাসূলগণ। সকল নবুওয়াত ও রিসালাতের উদ্দেশ্য ছিল ইবাদাতকে শুধুমাত্র আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে নিবেদিত করা।
শির্ক মানবতার এই মহান উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। যতগুলো অপরাধ রয়েছে দুনিয়াতে, তন্মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ অপরাধ হচ্ছে শির্ক। এ-থেকে বেঁচে থাকা তাওহীদ ও ঈমানের অপরিহার্য দাবী।
এই আবশ্যিক দাবী বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো শির্ক সম্পর্কে বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট জ্ঞান। এ-গ্রন্থটি এজন্যই খুবই প্রয়োজনীয় ও অবশ্যপাঠ্য একটি গ্রন্থ। এখানে কুরআন ও হাদীসের আলোকে শির্ক সম্পর্কিত আলোচনা সুন্দরভাবে ও সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে; এর পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রচলিত শির্কগুলোর বাস্তব দৃষ্টান্ত চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে।
তাফসীর আহসানুল বায়ান: শাইখ সালাহুদ্দিন ইউসুফ কর্তৃক উর্দু ভাষায় রচিত তাফসীরের সহজবোধ্য ও মানসম্মত বাংলা অনুবাদ। বাংলা অনুবাদটির তত্ত্বাবধান ও সম্পাদনা করেছেন আল-মাজমা‘আ দাওয়া সেন্টারের সম্মানিত দা‘ঈ শাইখ আবদুল হামীদ ফাইযী মাদানী সাহেব।
- উর্দু তাফসীরটি সম্পাদনা করেছেন রাহীকুল মাখতুমের বিশ্বখ্যাত লেখক শাইখ সফিউর রহমান আল-মুবারকপুরীসহ বেশ কয়েকজন আলেম; যা পরবর্তীতে মদীনাস্থ বাদশা ফাহদ কুরআন প্রিন্টিং প্রেস কর্তৃক প্রিন্ট হয়েছে।
- তাফসীরটি উর্দু ভাষায় প্রথম ছাপা হয়েছিল সুবিখ্যাত দারুস সালাম লাইব্রেরীর তত্ত্বাবধানে। তাদের কাছ থেকে বঙ্গানুবাদ ও ছাপার অনুমতি নিয়ে বাংলাভাষী সাউদী বিভিন্ন দাওয়া সেন্টারে কর্মরত বেশ কয়েকজন দা‘ঈ অনুবাদ কর্মটি সম্পন্ন করেন। তারা হলেন,
সফিউর রহমান আর-রিয়াদী, মিরাটস্থ দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ।
মুহাম্মাদ হাশেম মাদানী, আয-যুলফী দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ।
মুহাম্মাদ ইসমাঈল মাদানী, রিমাহ দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ ।
যাকির হোসেন মাদানী, রাবওয়া দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ।
মুসলেহুদ্দীন বুখারী, হারিমলা দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ।
শামসুজ্জোহা রহমানী, তামীর দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ।
হাবীবুর রহমান ফাইযী, আল-মাজমা‘আ দাওয়া সেন্টারের দা‘ঈ।
- তাফসীরটি ভারতে দু’বার ও বাংলাদেশে একবার ছাপা হয়েছে এবং ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে আল্লাহ তা‘আলাকে গালি দেওয়া, তাঁকে খারাপ গুণ প্রদান করা, তাঁর উদ্দেশ্যে এমন বাজে শব্দ ব্যবহার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা মুখে আনতে ও শুনতে একজন মুমিন কুণ্ঠাবোধ করে, অথচ তা ব্যাপক ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। হয়ত এমন লোকরাই তা বলে, যারা নিজেদেরকে মুসলিম বলে গণ্য করে; কারণ তারা শাহাদাতের কালেমাদ্বয় (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) উচ্চারণ করে থাকে। আবার কখনও কখনও এ জাতীয় গালি কোনো কোনো মুসল্লি তথা নামাযীদের কাছ থেকে প্রকাশ পায়, শয়তান এগুলো তাদের মুখ দিয়ে বের করে আর তাদের মনে উঠিয়ে ধরে যে, তুমি তো আর এটা উদ্দেশমূলকভাবে বলছ না! আর তুমি তো স্রষ্টাকে অসম্মান করার ইচ্ছা করছ না! তাছাড়া শয়তান তাদের মনে আরও শোভন করে দেয় যে, এগুলো এমনসব অর্থহীন কাজ, যার কাছে বেশি অবস্থান করার চিন্তা-ভাবনা করার প্রয়োজন নেই ! এভাবেই যারা আল্লাহকে গালি দেয় ও মন্দগুণ গুণান্বিত করে তারা বিষয়টিকে খুব সহজ করে নিয়েছে। অথচ এটা হচ্ছে বড় কুফরি ও বড় ধরণের অপরাধ। এ গ্রন্থে এ বিষয়টির ভয়াবহতা ও বিধান তুলে ধরা হয়েছে।
প্রবন্ধটিতে লেখক মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননার বিধান এবং দুনিয়া ও আখেরাতে এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
“ইসলাম: একমাত্র পরিপূর্ণ দীন” গ্রন্থটি মূলত একটি বক্তব্য, যা শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন ইবন মুহাম্মাদ আল-মুখতার আশ-শানকীতী রহ. মসজিদে নববীতে প্রদান করেছিলেন। এতে তিনি দুনিয়ার সকল বিষয় পরিচালিত হয় এমন দশটি মহান বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করে কুরআনের মাধ্যমে এর সমাধান করেছেন। বিষয়গুলো হচ্ছে:
১. তাওহীদ; ২. উপদেশ; ৩. সৎকর্ম ও অন্যান্য কর্মের মধ্যে পার্থক্য; ৪. পবিত্র শরীয়ত ব্যতীত অন্য কোন বিধানকে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ; ৫. সমাজের সামাজিক অবস্থা; ৬. অর্থনীতি; ৭. রাজনীতি; ৮. কাফির কর্তৃক মুসলিমদের উপর প্রভাব বিস্তার সমস্যা; ৯. কাফিরদের প্রতিরোধে মুসলিমদের সংখ্যাগত ও প্রস্তুতিগত দুর্বলতা সমস্যা; ১০. সমাজের পারস্পরিক আন্তরিক অনৈক্য সমস্যা।
‘উদ্দেশ্যপূর্ণ ও উদ্দেশ্যহীন প্রচলিত নিরেট ভ্রান্তিবিলাসের অন্যতম হলো, মানুষের সসীম ও সীমিত বোধশক্তিতে নির্ভর করে অসীম জ্ঞানী আল্লাহর প্রণীত আইন ও বিচারের প্রামাণ্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। অথচ মানুষের শ্রবণ, দর্শন ও ঘ্রাণেন্দ্রিয় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্র ব্যবহারের পরও আমাদের আনুষঙ্গিক ও পারিপার্শ্বিক জীবনের অনেক কিছুই বুঝতে অক্ষম’।
এই গ্রন্থে আকীদা, ইবাদত, আইন, মানবাধিকার, ইসলাম-প্রচার, উগ্রবাদ-চরমপন্থা ও নারীর মর্যাদা-অধিকার প্রভৃতি বিষয়ে ইসলামের অবস্থান এবং উগ্রবাদের অর্থ ও ইসলামী শরীয়াকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত ইসলামের নানা সমালোচনার যুক্তিপূর্ণ জবাব প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি যৌক্তিক উপায়ে ইসলামের সামষ্টিক বিষয়সমূহের পরিচয় উপস্থাপন করা হয়েছে।